TASAUF FOUNDATION

A Nonprofit & Nonpolitical Organization, Under Societies Registration Act 1860.

TASAUF FOUNDATION

A Nonprofit & Nonpolitical Organization, Under Societies Registration Act 1860.

Founder History

আধ্যাত্মিক পথ প্রদর্শক সৈয়দ শাহাদাত হুসাইন

আলহাদী সৈয়দ শাহাদাত হুসাইন আল্ হাসানী ওয়াল হোসাইনী বংশগতভাবে আলে রাসূল এবং পূর্বাঞ্চলের বাবে সির্‌রে আসরার, মাইজ ভান্ডার দরবার শরীফের হযরত গাউসুল আজম মাইজভান্ডারীর বংশধর এবং গাউসিয়া ওহাব মঞ্জিল এর মোন্তাজেম (তত্ত্বাবধায়ক)। মাইজভান্ডার দরবার শরীফ এর বাবে সির্‌রে আসরার, আরেফে মা’আরেফ, পূর্বাঞ্চলের ত্রাণকর্তা হযরত গাউসূল আজম মাওলানা শাহ্ছুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (কঃ) আল্ হাছানী ওয়াল হোসাইনী প্রকাশ হযরত ক্বেবলার ভ্রাতষ্পুত্র এবং খলিফা, স্রষ্টার রাজ রহস্যের দ্বার, আরেফ বিল্লাহ, হযরত গাউসূল আজম মাওলানা শাহছুফি সৈয়দ গোলামুর রহমান (কঃ) আল্-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী প্রকাশ বাবাজান ক্বেবলার সহোদর ভ্রাতা এবং অন্যতম খলিফা সুলতানুল আরেফীন হযরত মাওলানা শাহ্সূফী সৈয়দ আবদুল ওহাব (রহঃ) আল্ হাসানী মাইজভান্ডারী ছাহেবের সুযোগ্য পুত্র এবং খলিফা, সুলতানুল ওলামা, রুহুল আশেকীন, আরেফ বিল্লাহ্ হযরত মাওলানা সৈয়দ আবু নসর মুহাম্মদ ওয়াহিদ আল-হাসানী মাইজভান্ডারীর পুত্র ও খলিফা আলহাদী সৈয়দ শাহাদাত হুসাইন আল-হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভান্ডারী (মাঃ জিঃ আঃ)।

আলহাদী সৈয়দ শাহাদাত হুসাইন আল-হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভান্ডারী (মাঃ জিঃ আঃ) এর বয়স যখন বার তখন এক অলৌকিক ঘটনার মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে এবং তিনি আল্লাহ্ প্রেমের গভীর উন্মাদনায় কঠোরতম সাধনায় নিমগ্ন হন। নিজ পিতা ও মোর্শেদ এর নিকট ১৯৮৩ সনে আত্ম-সমর্পনের মাধ্যমে বায়আত হয়ে বেলায়ত ও খেলাফত অর্জন করেন। আলহাদী শিক্ষা জীবন থেকে শুরু করে আপন পিতা ও মোর্শেদ এর খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রেখে তাঁর মকামে আগত সকল আশেকানদের তদারক করতেন এবং এবাদত ও ত্বরিকতের বিভিন্ন মাকাম অতিক্রম করার তালিম দিতেন।

আলহাদী সৈয়দ শাহাদাত হুসাইন অন্যান্য হাদী ও মাশায়েখ হতে সম্পূর্ন ব্যতিক্রমধর্মী, কারণ তিনি শরীয়ত ও আধ্যাত্মিকতার মাপকাঠিতে স্বচ্ছ প্রমাণাদিসহ তার সমস্ত কার্যাবলী পরিচালিত করেন। আলহাদী যখন দেখলেন শরীয়ত, ত্বরিকত, মারিফাত ও হাকিকাত প্রত্যেকটির কর্ম আলাদা এবং স্বতন্ত্র, তখন তিনি এলমে তাসাউফ অন্বেষণ ও গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন। আপন পিতা ও মোর্শেদের নির্দেশে ১৯৮৬ সালে কুষ্টিয়ার মেহেরপুর সীমান্তে গিয়ে ক্বাদেরীয়া ত্বরীকার একজন ওলী-আল্লাহ্‌র সান্নিধ্যে যান এবং হিফজে দম ও আখফা লতিফা জারীর জ্ঞান অর্জন করেন। পরবর্তীতে আলহাদী তাসাঊফের সন্ধানে বহু পীর মাশায়েখ ও ওলী আওলিয়ার সান্নিধ্যে যান এবং এলমে লাদুনি অর্জন করেন। বাগদাদ শরীফের বিভিন্ন শ্যায়খদের সাথেও তাঁর আত্মিক যোগাযোগ রয়েছে। হযরত গাউসূল আজম মাওলানা শাহছুফি সৈয়দ গোলামুর রহমান (কঃ) আল্-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী প্রকাশ বাবাজান ক্বেবলার  একজন সুযোগ্য খলিফা হতে বাবাভান্ডারীর এলমে আসরার সম্পর্কিত কালাম ও জিকির অবগত হন। আলহাদী মনে করেন, নিজের দেহের আধ্যাত্মিক মাকাম সমুহ চেনা ব্যতীত আধ্যাত্মিকতা অর্জন করা ও পরকালীন সাফল্য সম্ভব নয়। আলহাদী বিভিন্ন সিদ্ধ পুরুষদের নিকট হতে সুলতানুল আজকার সহ মারিফাতের বিভিন্ন পদ্ধতি শিক্ষা অর্জন করেন যা ব্যবহারিক ও প্রমানিক। শরীয়তের অনুশীলন ও মারেফাতের নিগূঢ় সাধনার সংগে ইসলামী দর্শন ও ইতিহাস চর্চার মাধ্যমে প্রচলিত ভুল ধারণার পরিবর্তন করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে বিস্ময়কর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।

তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ আধ্যাত্মিক গবেষণায় ও সাধনায় নিয়োজিত রয়েছেন এবং আধ্যাত্মিক গবেষণালব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে মানুষের আত্মিক উন্নতি সাধনে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। আলহাদী চীন, ভারত সহ বিভিন্ন দেশ হতে বিভিন্ন মেডিটেশনসহ সূফি মেডিটেশন অনুশীলন করেন। আলহাদী কুপ্রবৃত্তি দমন, আত্মিক পবিত্রতা অর্জনের প্রক্রিয়া পদ্ধতি সহ সায়েরে ফিল্লাহ্ তথা আল্লাহ্‌তে ভ্রমন যথাক্রমে আলমে নাছুত, আলমে মালাকুত, আলমে জবরুত, আলমে লাহুত এবং আলমে হাহুত পর্যন্ত ভ্রমনের কৌশল শিক্ষা দিয়ে থাকেন। তাছাড়া তাওয়াজ্জু এনকাছি হতে এত্বেহাদী লাভের ব্যবহারিক কৌশল সমুহ শিক্ষা দিয়ে থাকেন। আলমে আমর, আলমে খালক, জিকিরে আনফাসী, আত্মশুদ্ধির পঞ্চস্তর, নযুল বা অবরোহ এর ৯টি স্তর, উযুল এর ৯টি স্তর, নাফসে আম্মারাহকে নাফসে রাহমানী পর্যন্ত উন্নীত করার ব্যবহারিক কৌশল সমুহ শিক্ষা দিয়ে থাকেন।

আলহাদী সৈয়দ শাহাদাত হুসাইন একজন আধ্যাত্মিক গবেষক ও সমাজ সেবক। তিনি সংখ্যাতত্ত্বে বিশেষ পারদর্শী এবং বিশ্বাস করেন যে ক্বোরানিক সংখ্যাতত্ত্ব মানুষের জাগতিক সমস্যা সমাধানের জন্য একটি কার্যকর পদ্ধতি। বিগত চল্লিশ  বছর থেকে তিনি তার অর্জিত জ্ঞান এর মাধ্যমে লাখো মানুষের আত্মিক ও জাগতিক উন্নয়ন করে যাচ্ছেন এবং বিভিন্ন জটিল রোগের আধ্যাত্মিক চিকিৎসা সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।  তিনি মনে করেন সালাত হচ্ছে নিজের জন্য আর মানব সেবা হলো স্রষ্টার চেহারায় হাসি ফোটানোর জন্য।  তাই মানব সেবার মাধ্যমে তিনি তাঁর সসীম গুণাবলীকে অসীমে রূপান্তরিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর থেকে আল ক্বোরানের নিগুঢ় রহস্য নিয়ে গবেষণা করছেন এবং তিনি মনে করেন আল ক্বোরআন জাগতিক ও আধ্যাত্মিক প্রতিটি বিষয়ের সমাধান নিহিত রয়েছে। আলহাদী আল ক্বোরানের আফাকী (বিশ্বজগত) আয়াতসমূহ  আনফাসে (নিজ দেহে) অনুধাবন করেন। তিনি আল ক্বোরান এর সমস্ত আয়াত থেকে  বিষয়-ভিত্তিক আয়াতসমূহ কে একত্রিত করে সকল বিষয়ের সিদ্ধান্ত বা সমাধান দিতে সক্ষম। তিনি মনে করেন, অনুমান বা ধারণার বশবর্তী হয়ে ধর্ম পালন করে ধার্মিক হওয়া যায়না বরং বাস্তবতা ও আধ্যাত্মিকতা মানুষকে স্রষ্টা  পর্যন্ত পৌছানোর  পথ দেখায়।

আলহাদী বলেন: মানব প্রেম হচ্ছে স্রষ্টার নিগুঢ় রহস্য। তিনি আল্লাহ্‌র বান্দাগণের হৃদয়ে মারেফাতে এলাহীর ও সিরাজাম মুনিরার নূর প্রজ্জলিত করার মহান দায়িত্ব নিয়ে ২০১০ সন হতে ঢাকায় “তাসাউফ ফাউন্ডেশন” প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত “তাসাউফ ফাউন্ডেশন” আজ হাজার মানুষের আধ্যাত্মিক ও জাগতিক কল্যাণের মহান কেন্দ্র হিসাবে প্রখ্যাত। সেখানে সকল স্তরের লোকজন স্রষ্টার গুপ্ত রহস্য জানার আগ্রহে এবং আত্মিক পবিত্রকরণের জন্য আগমন করতে থাকেন। ত্বরিকত চর্চা এবং সাথে সাথে জনকল্যাণ মূলক অনেক কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য “তাসাউফ ফাউন্ডেশন” একটি অনন্য আধ্যাত্মিক মারকায বা কেন্দ্র। বর্তমানে আলহাদী অন্যান্য দায়িত্বের পাশাপাশি আহলে বেলায়তের উপর গবেষণা, এলমে তাসাউফ নিয়ে লেখালেখি ও সূফি মেডিটেশন শিক্ষা দানে নিয়োজিত আছেন। হাজারো বছর ধরে যে কাজটি সমাপ্ত হয়নি তা হচ্ছে আল ক্বোরআনের বিষয়ভিত্তিক আয়াত সমুহকে সঠিকভাবে একত্রিত করা। তাই আলহাদী আল ক্বোরআন হতে জীবন ও সমাজ ঘনিষ্ট বিষয়সমুহের আয়াতগুলোকে একত্রিত করে প্রতিটি বিষয়ে ক্বোরআনের সঠিক সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন যা সকলের নিকট গ্রহনীয়। তাঁর ভুবন মোহন কান্তি—ময় চেহারা, সুমধুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট এবং অতুলনীয় আধ্যাত্মিক শক্তি দ্বারা তিনি ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষের অন্তর জয় করেছেন এবং এশকে এলাহী ও নূরে মোহাম্মদীর উদ্ভাস ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

বর্তমানে তিনি আধ্যাত্মিক চর্চ্চাকেন্দ্র ও মানবকল্যানে ব্রত প্রতিষ্ঠান তাসাউফ ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠিতা চেয়ারম্যান। তাসাউফ ফাউন্ডেশন একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান যা দীর্ঘ ১১ বছর থেকে নিজস্ব অর্থায়নে যে কোন প্রাকৃতিক ও মানবিক দূর্যোগে মানুষের পাশে থেকে কাজ করে আসছে। তাসাউফ ফাউন্ডেশনের দর্শন হলো মানবসেবার মাধ্যমে স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভ এবং স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জন করা। আলহাদী সৈয়দ শাহাদাত হুসাইন এর সুযোগ্য নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে

তাসাউফ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন বৃহৎ প্রকল্প চলমান রয়েছে তৎমধ্যে দ্যা এঞ্জেলস্‌ গার্ডেন (শিশু নিবাস), দেশব্যাপী নৈতিক শিক্ষা প্রদান কার্যক্রম, বিনামুল্যে চুক্ষু ও স্বাস্থ্যসেবা,  বয়স্ক সেবা সহ  “পাশেই আছি”  এর মত বিভিন্ন প্রকল্প। তিনি মনে করেন, লক্ষ লক্ষ মানুষের কাজও কখনও কখনও মানবতার কল্যাণ বয়ে আনতে পার না কিন্তু একই  মানসিকতার কিছু মানুষের ঐক্যবদ্ধ দানশীন হাত মানুষকে উপহার দিতে পারবে মানবতার বিজয়।